Uncategorized

বরিশালের দূর্গাসাগরে সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা নীল পদ্ম ফুলের দিঘি।।

: কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার নায়ক তাঁর প্রেয়সীর মন পাওয়ার জন্য ‘সমস্ত বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে’ এনেছিলেন ১০৮ টি নীল পদ্ম। সাহিত্যে নীল পদ্মের এরকম সরব উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবে তার দেখা মেলে না।

পাশাপাশি সাহিত্যে সাদা পদ্মের বিষয়ে কোনো ছন্দ বা লেখা চোখে না পড়লেও বাস্তবে তা দেখা যায় দূর্গাসাগর দীঘিতে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দূর্গাসাগর দীঘিতে এবার প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া নতুন আকর্ষণ এই সাদা পদ্ম।

সরেজমিনে দূর থেকে দূর্গাসাগর দীঘির দিকে তাকালে মনে হয়, সবুজ খেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে অসংখ্য সাদা সাদা বক। যতই কাছে যাওয়া যায়, ততই মনে হয় কোথায় বক, এ যে দেখছি বিরাট আকারের ফুল। পানির ওপর গোল পদ্মপাতাগুলো ভেসে আছে। এর ফাঁক দিয়ে মাতা উঁচু করে ফুটে আছে সাদা সাদা পদ্ম। কোনোটি সম্পূর্ণ ফোটা, কোনোটি আধা ফোটা, আবার কোনোটি বা শুধুই কলি।

“জলজ ফুলের রাণী বলা হয় পদ্মকে”। ফুটে থাকা ফুল শুধু দূর্গাসাগর দীঘির নয়, সৌন্দয্য বাড়িয়ে তুলছে প্রকৃতির। এ বছরেই প্রথম প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া পদ্ম ফুল সৌন্দর্য আকৃষ্ট করায় দূর্গাসাগর দীঘিতে সাম্প্রতি প্রতিনিয়ত ভিড় করেছে দর্শনার্থীরা।

বুধবার সরেজমিনে দূর্গাসাগর দীঘিতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রকৃতি যেন তার সবটুকু সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে। দীঘির দক্ষিণ দিকে বিশাল অংশ জুড়ে দেখা মিলবে সাদা পদ্মের। বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে যেন পদ্মের সমাহার।

দুর্গা সাগর দীঘির দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার তপন লাল লস্কর এর সাথে কথা হলে জানান, প্রাকৃতিকভাবে এ বছর জন্ম নেয় পদ্মফুল। বর্ষার শুরুতেই দীঘির বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ফুটে আছে সাদা রং-এর পদ্ম। যা দেখলে মন-প্রাণ আর চোখ জুড়িয়ে যায়। পাপড়ি মেলে প্রকৃতি প্রেমীদের স্বাগত জানায় জলজ ফুলের রানী পদ্ম। এমন অপরূপ দৃশ্য যেন ভ্রমণপিপাসুদের প্রতিনিয়ত হাতছানি দিচ্ছে।

এ ছাড়াও তপন লাল লস্কর আরো জানান, বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান স্যারের নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া কারণেই দুর্গাসাগরে দিন দিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় করে বর্তমানে বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মজিবুর রহমান জানান, পদ্ম এটি বহুবর্ষজীবী গাছ। এর কাণ্ড লতানো। পাতা গোল, প্রায় ৪০ সেমি চওড়া। সরু কাঁটাযুক্ত লম্বা বোঁটার ফুলগুলো সুগন্ধিযুক্ত, পাপড়ি সাদা ও পুংকেশর হলদেটে। একটি ফুলে ১২ থেকে ১৮টি পাপড়ি থাকে। বর্ষা থেকে শরৎকালে এ ফুল বেশি ফোটে। পানির ওপরে পাতা ও ফুল ভাসমান অবস্থায় থাকে। মূল পানির নিচে কাদায় আবদ্ধ।

দূর্গা সাগর দিঘিতে পদ্ম ফুল আর প্রাকৃতিক সৌন্দয্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিনই ছেলে-মেয়ে, পরিবার-পরিজন আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ভিড় করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমীরা।

বাবুগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, করোনা কারনে দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্ধি অবস্থায় রয়েছি। একুট প্রশান্তির জন্য দূর্গা সাগর দিঘিতে পদ্ম ফুল আর প্রাকৃতিক সৌন্দয্য উপভোগ করার জন্য এসেছি। এখানে ঘুরতে আসলেই যেন মন ভাল হয়ে যায়। এ বছর পদ্ম ফুলের কারনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের কারনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বরিশাল জেলা প্রশাসকের আদেশক্রমে দীঘি এলাকায় সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা অবস্থান ও সর্বোচ্চ ৫০ জন প্রবেশ করা সহ ১১ টি শর্তসাপেক্ষে গত আগষ্ট মাস থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ঐতিহ্যবাহী দুর্গা সাগর।

দুর্গা সাগর দীঘিতে পর্যটকের মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার দেশি-বিদেশি মানুষ রয়েছেন। তবে পর্যটকদের জন্য আবাসন ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও নিশ্চিত হয়নি বলেও ঘুরতে বাসা অনেক পর্যটক অভিযোগ করেন। এসব সমস্যা সমাধান করলে দুর্গা সাগর দীঘিতে আরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো দেখুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত খবর

আরো দেখুন
Close
Back to top button